বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন

মসজিদ-মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নঃ দায় কার?

বোরহান উদ্দিন
প্রকাশিত : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

দ্বীন ইসলামের নামে ধর্ষণ উম্মতে মুহাম্মদীর কাছে কি পবিত্র কর্ম? এমন প্রশ্নের জবাব বেশ স্পষ্ট। ইসলামে নারী, শিশু সহ ধর্ষণের ইতিহাস রয়েছে।

মসজিদ, মাদ্রাসা, হেফজখানা সহ বাংলাদেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইসলাম, কুরআন, হাদিস শিক্ষার নামে চলে ইসলামি মাওলানা, মুফতি, আলেমদের বিকৃত যৌনাচার। এসব প্রতিষ্ঠানকে পরিণত হয়েছে ধর্মের নামে শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতনের সেল হিসেবে। এসব নিয়ে বেশ বিতর্কও আছে ইতোমধ্যে। এবং এসব বিতর্ক এরই মধ্যে বেশ পুরনো। যারা এ ধরনের নিকৃষ্ট কর্মের সাথে জড়িত হচ্ছে, এদের বেশিরভাগই ধর্ম ইসলামের অনুসারী। এরা ইসলামী ধর্ষক।

নবী মুহাম্মদের জীবনে নারীদের প্রতি কামনা-বাসনার দলিল কুরআন। এই কেতাব পড়তে গিয়ে বিভিন্ন সূরার বর্ণনায় সর্বউৎকৃষ্ট হেরেমখানা জান্নাতুল ফেরদাউসে হূরদের শারীরিক বিভিন্ন বর্ণনা এসেছে। যা মুসলমানদের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে অদেখা জান্নাত এবং এর মধ্যে থাকা নারীসহ বিভিন্ন উপভোগ্য বস্তুর গল্পের সারমর্ম মুসলমানের ঈমানকে আন্দোলিত করে।

বিশেষ করে সূরা আন-নাবা ৭৮:৩৩—জান্নাতের পুরস্কারের মধ্যে হূরদের “সমবয়সী উদারবক্ষ তরুণী”—তাদের আগে কোনো মানুষ বা জিন স্পর্শ করেনি, পূর্ণযৌবনা নারীগণ, এমন যুবতী নারী, যাদের স্তন যৌবনে পূর্ণ ও উঁচু হয়েছে—এবং অনন্ত সময় ধরে তাদের সাথে যৌনসঙ্গম করা যাবে। এমন সব যৌন উত্তেজক গল্পের পর ধর্মের লিঙ্গ উত্থিত হয় মাওলানাদের। আল্লাহর নাম নিয়ে বলাৎকারে লিপ্ত হয় মাদ্রাসায় পড়ুয়া নাবালক শিশুদের সাথে।

এ ধরনের পাপাচার কি আল্লাহ দেখেন না? নাকি শুধুমাত্র ধর্ম ইসলামের অনুসারী হওয়ার কারণে জায়নামাজে কপাল ঠেকালে এর সমাধান দিয়ে দেন স্বয়ং আল্লাহ। বান্দা বে-গুনাহগারে পরিণত হয়?

কারণ জান্নাতে কথিত ৭২ হূরের সাথে যৌনসঙ্গমের কামনা ও নগ্ন হূরদের অবাধ ধর্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। এবং লিঙ্গ পরিচয়হীন আল্লাহ স্বয়ং কি তাঁর বান্দার এ ধর্ষণ উপভোগ করবেন?

কিন্তু ধর্মের নামে, ইসলামের নামে, এপস্টিন নবী মুহাম্মদের নামে তারা পৃথিবীকে জান্নাত বানাতে বদ্ধপরিকর। মহান আল্লাহ তায়ালা যেহেতু কুরআনের কোথাও শিশু বলাৎকার ও ধর্ষণের কথা বলেননি, সেহেতু তা বৈধ। স্বয়ং নবী মুহাম্মদ ছিলেন ধর্ষক, একজন শিশু ধর্ষক। এ কথা এত তীব্রভাবে নবী মুহাম্মদের নামে আসলে কেন বলছি?

কেননা, মাত্র ৬ বছরের শিশু আয়েশাকে দেখে নবী মুহাম্মদ তাঁর যৌন বাসনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। কথিত কেতাব কুরআনে আয়াত নাজিল করলেন; আল্লাহর হয়ে স্বয়ং নিজে। ধর্মের দোহাই দিয়ে বিয়ে করলেন আয়েশাকে। আয়েশাকে বিয়ের নামে ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগেই দাম্পত্য জীবনে জড়ালেন একজন নাবালিকার সাথে। এবং স্বয়ং মুসলমানের আল্লাহকে বানালেন ধর্ষণের নির্দেশদাতা।

যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয়, একটি সভ্য জগতের মানুষ হিসেবে আপনি কি এটিকে কোনোভাবে সমর্থন করেন? সমর্থন করার কথা নয় অবশ্যই। এটি অমানবিক ও বর্বর আচরণ একটি শিশুর প্রতি।

মুসলমানের আল্লাহ কত মহান! যিনি তাঁর নবীর কষ্টও আরশে আজিম থেকে উপলব্ধি করে শিশু ধর্ষণের অনুমতি প্রদান করেন।

আজকের বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তবতাও তাই। যে যত ধর্ম করে, সে তত কুকর্ম করে। এসব কুরআন ও ধর্মচর্চার নামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও হেফজখানার মতো বন্ধে এ দেশের সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে।


আরও পড়ুন