বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন

মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন: গোপনীয়তা, নীরবতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি

বোরহান উদ্দিন
প্রকাশিত : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

মাদ্রাসায় শিশুর আত্মহত্যাঃ ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার।
তথ্যসূত্রঃ (বিডিনিউজ২৪.কম, ২১ মে ২০২৬)

সংবাদপত্রের এমন শিরোনামই বলে দেয় বর্তমানে বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলো মূলত শিশু ধর্ষণালয়।

কওমি মাদ্রাসাসহ মসজিদ, হেফজখানার মতো ধর্মীয় উগ্রবাদ ও চরমপন্থা তৈরির স্থানগুলোতে যে শিক্ষকরা ধর্ষণ করে, সে শিক্ষকরাও এক সময় ছাত্রাবস্থায় ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। মাদ্রাসার এই ধর্ষণচক্র ও বলাৎকারচক্র দিন দিন ভয়ংকর আকার ধারণ করছে।

এসব কথিত পাপাচারের ধর্ম নবী মুহাম্মদের ধর্ম ইসলাম যতদিন থাকবে, ধর্মীয় এসব মসজিদ, মাদ্রাসাগুলো যতদিন থাকবে ততদিন শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকার থাকবে। সময়ের সাথে এমন পরিবেশ ও পরিস্থিতি বেশ ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে। রাষ্ট্র, সমাজ ও পারিবারিক আবহে যত বেশি ইসলাম বাড়ছে, তত বেশি শিশু ধর্ষণ, শিশু হত্যা, নারী নির্যাতন, নারী হত্যা, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা বাড়ছে। এইসব অপরাধের সঙ্গে ইসলামের সম্পর্ক অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ। মসজিদ, মাদ্রাসাগুলোকে ঘিরে চলে নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড। ধর্মীয় রাজনীতির অন্তরালে মৌলবাদ, উগ্রবাদ, চরমপন্থা, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের চর্চা চলে এসব প্রতিষ্ঠানে।

ইসলাম মানবাধিকার, নারীর অধিকার ও শিশু ধর্ষণের বিষয়ে কোনো জ্ঞান দেয় না। দ্বীন ইসলামের প্রচারক নবী মুহাম্মদের বিরুদ্ধে শিশুর প্রতি অমানবিক আচরণের ইতিহাস রয়েছে। শিশু আয়েশাকে (৬ বছর বয়স) ধর্মের দোহাই দিয়ে কথিত নবী কোরআনে আয়াত নাজিল করে বিয়ে করেন। শিশু আয়েশার আর্তচিৎকার নবী মুহাম্মদকে স্পর্শ করতে পারেনি। এমন ক্ষেত্রে নবীর হৃদয় বিগলিত হয়নি।

ইসলামে নারী, শিশু, স্ত্রী, কন্যাদের প্রতি বিদ্বেষ এত বেশি পরিপূর্ণ যে নবী মুহাম্মদও ১১ স্ত্রীর পরও ২ যৌনদাসী ও যুদ্ধে বন্দিনীদের প্রতি নির্যাতন ও তাদের সম্ভ্রমের প্রতি অবমাননার ইতিহাস রয়েছে। এসব নারীদের প্রতি আচরণ ছিলো অমর্যাদাকর।

আজকের বর্তমান বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোও বেশ আলোচিত। এসব আলোচনার মূল কেন্দ্রেই রয়েছে কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের যৌন নির্যাতন, হেনস্তা এবং শিশুর প্রতি অমানবিক আচরণের এক ধরনের প্রতিষ্ঠিত সত্য।

এসব মুসলমানেরা তাই আজ মেয়েশিশু ধর্ষণ, হত্যা, বলাৎকার, বহুবিবাহের নামে নারীদের অধিকার হরণকে কোনো অপরাধ মনে করে না। ইসলাম বলে নামাজ, রোজা করলে, হজ করলে সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। এসব কথিত বিধানই মানুষকে অপরাধপ্রবণতা দেয়।

মসজিদ, মাদ্রাসার নামে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে। শুধুমাত্র ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে ধর্মের নামে, ধর্মশিক্ষার নামে যেখানে এসব শিশুদের মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়, নির্যাতনের চিত্র যখন হয়ে উঠে যৌনতার; যে চিত্র থেকে বোধহয় বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে।

এদের কাছে কি প্রাপ্তবয়স্ক, কি শিশু—সবাই যৌনবস্তু। বেহেশত নামক কাল্পনিক হেরেমখানায় ৭২ হুরের সাথে উন্মাদনার গন্ধ এদের মাথায় উঠে গিয়েছে। এ লোভ তাদের পক্ষে সামলানো অসম্ভব।


আরও পড়ুন