সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ন

যে ধর্মের কিচ্ছা মানুষের অধিকারের স্বীকৃতি দেয় না, যে কোরআনকে পুড়িয়ে ফেলতে হবে

বোরহান উদ্দিন
প্রকাশিত : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

আপনার চারপাশে থাকা ভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়ের (এলজিবিটিকিউ) মানুষদের পদচারণা অবশ্যই চোখ এড়িয়ে যায় না। বাইরে থেকে দেখে খুব স্বাভাবিক মনে হতে পারে।

কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের বাংলাদেশের মতো দেশে, বিশেষ করে যেখানে রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থায় ধর্ম ইসলামের প্রভাব রয়েছে, সেখানে তাদের জীবন এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দী।

প্রতিদিন ভয়, লজ্জা আর অস্বীকৃতির সঙ্গে লড়াই করে এদের বেঁচে থাকতে হয়। রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার—প্রতিটি স্তরেই এলজিবিটিকিউ মানুষদের অস্তিত্ব ও যৌন পরিচয়ের ভিন্নতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। এই ধরনের বাস্তবতা শুধু তাদের নয়, এটি মানবতা ও মানবাধিকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।

এদিকে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের প্রতি ইসলামের যে অবস্থান, সেটিকে বর্বর, জাহেলিয়াতের ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করে। বিজ্ঞানের কোনো ব্যাখ্যাই লিঙ্গধর্ম ইসলাম বিশ্বাস ও স্বীকার করে না। ইসলাম একটি বর্বর ও মৌলবাদীদের ধর্ম। বাংলাদেশে ভিন্ন যৌন পরিচয়ের মানুষদের ইসলামী মৌলবাদী, উগ্রবাদী ও চরমপন্থীরা ধর্মের মান রক্ষায় হত্যা করাকে জায়েজ মনে করে। এমন মৃত্যুর তথ্য গোপন করে সরকার।

ইসলামী আইন অনুসারে, যদি কোনো পুরুষ সমকামিতা বা পায়ুসঙ্গম করেছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে শাস্তিস্বরূপ তাকে এবং তার সমকামী সঙ্গীকে হত্যা করতে হবে। এ ব্যাপারে সাহাবীগণ ও আলেমগণ একমত।

ইমাম তিরমিযী বলেছেন, “কিছু আলেম মনে করেন যে, উভয় সমকামীকেই পাথর মেরে হত্যা করা উচিত, তারা বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত।” এই মতকে সমর্থন করেছেন ইমাম মালিক, ইমাম শাফিঈ, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল এবং ইসহাক।

আল্লাহর এপস্টিন যৌন নির্যাতক নবী মুহাম্মদ বলেছে, “তোমরা যাকে লুত সম্প্রদায়ের কৃতকর্ম করতে দেখবে, তাকে এবং যার প্রতি তা করা হয়েছে, উভয়কেই হত্যা করো।” (আবু দাউদ, হজ্জ/৪৪৬২)

নবী মুহাম্মদ রচিত কোরআন এলজিবিটিকিউ মানুষদের স্বীকৃতি দেয় না। তাই যে ধর্মের কিচ্ছা মানুষের অধিকারের স্বীকৃতি দেয় না, যে কোরআনকে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। ধর্ম ইসলামের নামে এ বর্বরতাকে রুখে দিতে হবে।

বাংলাদেশের আইনও যৌন পরিচয়ে ভিন্নতা থাকা মানুষদের অধিকারকে সুরক্ষিত করে না। দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা। ৩৭৭-এর আইন অনুযায়ী—যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো পুরুষ, নারী বা পশুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়, যা প্রকৃতির নিয়মের পরিপন্থী, তাকে দশ বছর, দশ বছর বা তার বেশি বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা দিতে বাধ্য করা হবে। এ ধরনের আইন বাতিলযোগ্য।

যৌন পরিচয় ও যৌনতা একটি স্বাভাবিক আচরণ। বাংলাদেশের মসজিদ, কওমি মাদ্রাসা ও হেফজখানাগুলোতে ধর্মশিক্ষার নামে চলে গণহারে মাওলানা, কাঠমোল্লাদের আল্লাহর নামে শিশু বলাৎকার। শুধুমাত্র ধর্মের দোহাই দিয়ে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বেশিরভাগই অপ্রকাশিত থেকে যায়। কখনো ধর্ম, ভয় কিংবা সামাজিক প্রেক্ষাপট এমন সংবাদ প্রচার ও অভিযোগ থেকে মানুষকে বিরত রাখে।

‘সমকামী যৌনতা একটি স্বাভাবিক আচরণ।’ মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার মাওলানা সমলিঙ্গের প্রতি যৌনতা অনুভব করতেই পারেন। কিন্তু তা যদি প্রাপ্তবয়স্ক কারও প্রতি হয়, সেটি অপরাধ নয়; কিন্তু অপ্রাপ্তবয়স্ক কারও সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানো অপরাধ। এ অপরাধ নারী ও শিশু অধিকার আইন ২০০০-এরও ব্যত্যয়।

২০০৯ এবং ২০১৩ সালে, বাংলাদেশ সংসদ ৩৭৭ ধারা বাতিল করতে অস্বীকার করে। যেখানে রাষ্ট্রের আচরণ অমানবিক ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন।

বাংলাদেশ সরকারের উচিত ৩৭৭-এর মতো ধারা অতিদ্রুত বাতিল করে এলজিবিটিকিউ+ মানুষদের অধিকার নিশ্চিত করা। ভালোবাসার অধিকার নিশ্চিত করে লিঙ্গধর্ম ইসলামের মৌলবাদকে ছুড়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে যৌন কিচ্ছার কিতাব কোরআন ছাপানো বন্ধ করতে হবে। বন্ধ করতে হবে তথাকথিত ধর্মের উপদেশ।


আরও পড়ুন