বাংলাদেশে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ, চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের উত্থানের বিষয় যখন সামনে আসে, এমন প্রশ্ন তখন খুব স্বাভাবিক—এত জঙ্গি এলো কোথা থেকে?
সারাদেশে কওমি মাদ্রাসা, মসজিদ, হেফজখানাগুলোতে ধর্মান্ধতা, মৌলবাদের চাষাবাদ হয়। কিন্তু এর পেছনে দায় রয়েছে রাষ্ট্র ও সংবিধানের। রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সংবিধান এর বৈধতা প্রদান করে।
সংবিধানের প্রস্তাবনার একেবারে শুরুতে যুক্ত করা হয়েছে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”; এছাড়াও অনুচ্ছেদ ২ক আলাদা বিষয়—এখানে বলা হয়েছে, “প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম”। এর মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রব্যবস্থায় ভিন্নমত, ধর্ম, বর্ণ ও যৌন পরিচয়ের মানুষদের জীবনকে এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দী করা হয়েছে।
রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম হতে পারে না। বাংলাদেশের যে সংবিধান নাগরিকের অধিকারকে হনন করে রাষ্ট্রে একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মতবাদকে চাপিয়ে দিতে চায়, প্রভাবকে সমুন্নত করতে চায়, সে সংবিধানকে আমরা মানি না। এ সংবিধানকে ছুড়ে ফেলতে হবে। বাতিল/পরিবর্তন করতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে, গত ১০ আগস্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে ছিল বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান নিয়ে উদ্বেগ ও আশঙ্কা। এর প্রধান কারণ সারাদেশে ইসলামপন্থীদের উত্থান ও আগ্রাসন। কিছুদিন আগেও সারাদেশে একযোগে তাদের সাদা-কালো পতাকার মিছিল দেখা গিয়েছে। সেখানে তাদের স্লোগানে ছিল শরিয়াহ আইন, খেলাফত ও ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উন্মাদনা।
বর্তমানে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকে সারাদেশে ইসলামি খেলাফত ও শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের দাবি উত্থাপিত হতে থাকে মৌলবাদী ইসলামী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকেও একযোগে। যেখানে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (নব্য-জেএমবি), ইসলামী শাসনতন্ত্র ও খেলাফতে মজলিসসহ অসংখ্য ইসলামপন্থী [গোষ্ঠী রয়েছে]।
আফগানিস্তানের কট্টরপন্থী নৃশংস ইসলামি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তালেবান; যারা ইসলামিক স্টেট, আইএস/ইসলামিক স্টেট নামে পরিচিত—এমন ইসলামী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মত ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী, মৌলবাদী ও সন্ত্রাসীগোষ্ঠীদের আকস্মিক উত্থানও পরিলক্ষিত হয়। সেখানে ভিন্নতা থাকা মানুষদের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় ও প্রশ্নটা বহুদূর।
মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ আজ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে। এর দায় আছে বাংলাদেশের মানুষেরও। কিন্তু এ দেশের মানুষ ধর্মান্ধ। ইসলামপন্থী জোট আজকের সংসদে বিরোধী ভূমিকায়; রাষ্ট্রক্ষমতার প্যারালালে। সেখানে যুক্ত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত এনসিপির মতো তরুণেরা। এরা বিপথগামী। আজকের বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের যে উর্বরতা দৃশ্যমান হয়, এর পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলে।
বাংলাদেশে ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের অভিযোগ সারাদেশে [ছিল]। আজকের যিনি প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমান, তিনি ছিলেন ২০০৪ সালের ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামি। তিনি ছিলেন জঙ্গিবাদের নির্দেশদাতা। আজকে তাঁর হাতেই বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ। আর জাতিসংঘের উদ্বেগ বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ নিয়ে কি কোনো যুক্তিতেই কি অপ্রাসঙ্গিক হতে পারে?
@BurhaNU95ddiN
আমার সর্বশেষ সকল আপডেট ও চিন্তাভাবনা এক্স (টুইটার)-এ সরাসরি পেতে ফলো করুন।
Follow on X